কেন আমাদের হিরোশিমা ও নাগাসাকির কথা মনে রাখা উচিত

৬ আগস্ট ২০১৫ তারিখে হিরোশিমার পিস মেমোরিয়াল পার্কের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন কেনেডি ও যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নিয়ন্ত্রন ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি রোজ গোটেময়লার (তরু হ্যানাই, রয়টার্স)। আজ পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম পরমানু অস্ত্র ব্যবহারের সত্তরতম বার্ষিকী। পরমানুর দ্বিতীয় ব্যবহারের সত্তর বছর পূর্তি হবে ৯ আগস্ট। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চূড়ান্ত দিনগুলোতে আত্মসমর্পণ প্রশ্নে জাপানের দোলাচল দূর করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই অভিনব বিধ্বংসী বোমাগুলো জাপানের উপর ফেলেছিল। জাপানে প্রতি বছর এই দুটি দিন স্মরণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে এই স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শুরু করেছে ২০১০ সাল থেকে, যখন প্রথম দায়িত্বরত ইউএস রাষ্ট্রদূত হিসেবে জন ভি. রোজ ৬ আগস্টের হিরোশিমা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছেন। আজ  রাষ্ট্রদূত ক্যারোলিন কেনেডি একা নন,  অস্ত্র নিয়ন্ত্রন ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি রোজ গোটেময়লারকে সাথে নিয়ে এই অনুস্থানে অংশগ্রহণ করলেন। তারা ৯ আগস্টের নাগাসাকি স্মরণ অনুষ্ঠানেও অংশগ্রহণ করবেন।

এই অস্ত্র ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিল কিনা এই বিতর্কে যুদ্ধের সমাপ্তি টানার অত্যাবশ্যকতা এবং দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পুরুষ ও নারী সেনা নিহতের সংখ্যা কমানো ইত্যাদি বিষয় কেন্দ্রবিন্দুতে আবর্তিত হয়েছে। মনে করা হয়েছিল,  ১৯৪৫ সালের জুন মাসের ওকিনাওয়া যুদ্ধের পর জাপানে আবার স্থল আক্রমণ করলে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী দশকগুলোতে ঐতিহাসিকগণ এ বিষয়ে অনুসন্ধান করেছেন এবং এই সিদ্ধান্ত সঠিক না ভুল ছিল তা নিয়ে অনেক আবেগসিক্ত আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু কোন মতভেদ ছাড়াই  দুটি মূল বিষয় আমরা স্বীকার করে নিতে পারি। এক. পরমানু অস্ত্রের ব্যবহার আরও বড় ধরনের এবং আরও বিধ্বংসী পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ১৯৪৫ সালেই  পরমানু প্রযুক্তির অগ্রগতি বন্ধ হয়নি। বরং আরও বেশি সংখ্যক দেশে আগের চেয়ে অনেক বেশি  ক্ষমতাসম্পন্ন বিধ্বংসী পরমানু অস্ত্রের মজুদ তৈরি হচ্ছে। পরমানু অস্ত্রের বিস্তৃতি কমানো এখনো পর্যন্ত আমাদের সবচেয়ে বড় পলিসি চ্যালেঞ্জ। যুদ্ধ বেঁধে গেলে এসব অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।

যদি আমরা এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে না পারি, আমাদেরও একই দুর্দশার মধ্য দিয়ে যেতে হবে এবং একই প্রক্রিয়ার অংশীদার হতে হবে। এই দায় আমাদের প্রজন্মের উপর বর্তায়। যুক্তরাষ্ট্র জাপানের প্রতি তার দায়বদ্ধতার কথা আরও খোলাখুলিভাবে স্বীকার করে নেয়ার এটাই উপযুক্ত সময়। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তাঁর প্রাগ ভাষণে যেমন বলেছেন, ‘পরমানু অস্ত্র ব্যবহারকারী একমাত্র পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের একটা নৈতিক কর্তব্য আছে। কিন্তু আমরা একা এই প্রচেষ্টায় সফল হতে পারব না। আমরা নেতৃত্ব দিতে পারি, শুরু করতে পারি’। আমরা অনেকেই আশাবাদী যে, প্রেসিডেন্ট তাঁর পরবর্তী জাপান সফরে গিয়ে হিরোশিমা পরিদর্শন করবেন। শুধু কি ঘটেছে তা মনে করিয়ে দেয়া নয়, কেন ঘটেছে তার ব্যাখ্যা প্রদানেরও যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান যৌথভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কেন আমাদের যুদ্ধের ক্ষত আবার জাগিয়ে তোলা উচিত নয়, বরং প্রতিরোধ করা উচিত। সত্তর বছর ধরে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতার শক্তি প্রমানিত হয়েছে । যেহেতু তুলনামূলক তরুন আমেরিকান ও জাপানিরা এই প্রক্রিয়ার সামনে এগিয়ে এসেছেন, এটাই হবে অগ্রগতির সহজ উপায়। আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে যুগান্তকারী মুহূর্ত সম্পর্কে নীরব থাকলে তা আমাদের শুধু পেছনের দিকেই নিয়ে যাবে।

অনুতাপ ও ক্ষমাপ্রার্থনার রুপতত্ত্ব নিয়ে এশিয়ান বিতর্কের এই বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের প্রয়োজনীয় একটা সহজ কাজ করা বাকি আছে- ১৯৪৫ সালের ভয়াবহতা স্মরণ করে এবং তার প্রতিফলনস্বরূপ আমাদের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতিকে আরও জোরালো করা যে, আমাদের সমাজসমূহ আর এই ভয়াবহতার মুখোমুখি হবে না।

যুক্তরাষ্ট্র-জাপান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৭০তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে পোস্ট করা হয়েছে

অননূদিত প্রবন্ধটি পড়তে ক্লিক করুন: http://blogs.cfr.org/asia/2015/08/06/remembrance-and-reflection-hiroshima-and-nagasaki/?utm_source=feedburner&utm_medium=feed&utm_campaign=Feed%3A+AsiaUnbound%2FSSmith+%28Asia+Unbound+%C2%BB+Sheila+A.+Smith%29

You might also be interested in