সাংবাদিকতা  এখন বিপর্যস্ত এবং গণতন্ত্র হুমকির মুখে। ব্রিটেন এবং যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অসংখ্য সম্পাদকীয় পাতায় এই অশুভ বার্তার খবর বিগত বছরগুলোতে প্রচারিত হয়েছে।

খবর প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে সংবাদপত্র গত দু’শতাব্দী ধরে পৃথিবীতে প্রাধান্য বিস্তার করে এসেছে। কিন্তু বিশ শতকের অনেক মাধ্যম, যেমন ডাক টিকিট সংগ্রহের মতো এটিও এখন হারিয়ে যাবার মুখে। লাখো আমেরিকান আজ তাদের প্রয়োজনীয় সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর বদৌলতে অনলাইনে পেয়ে থাকে। এতো দ্রুত সংবাদপত্র জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে যে অনেক পণ্ডিতজন ভাবতে বসেছেন, সাংবাদিকতার প্রকৃত কোন ভবিষ্যৎ আছে কি না।

সংকটের মুহূর্তগুলো কোনভাবেই অপচয় করা উচিত নয়। ইতিহাসবেত্তাদের ছোট একটি দল অল্প কিছু সময় ধরে আমাদের সাংবাদিকতার ইতিহাস পরিক্রমাকে নতুন করে লিখছেন যাতে করে বর্তমানের প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হয়। কিন্তু দেখা যায়, সংবাদের ইতিহাস আর সংবাদপত্রের ইতিহাস প্রকৃতপক্ষে এক জিনিস নয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই সংবাদপত্রের ইতিহাসকে সঠিকরুপে অনুধাবন করা হয়না।

সাধারণ জনমতের বিপরীতে দেখা যায়, সংবাদপত্রের সাংবাদিকতা দীর্ঘসময় ধরে অনুদান পেয়ে এসেছে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে, পাঠকদের কাছ থেকে নয়। জোসেফ পুলিতজার বা উইলিয়াম র‍্যান্ডলদের ব্যাংক একাউন্টের হিসাব মেলাতে যে অর্থের প্রয়োজন সেটা পাঠকদের পক্ষে মেটানো সম্ভব নয়, বিজ্ঞাপনদাতারই এই অর্থের যোগান দিয়েছেন।

কিন্তু ইন্টারনেটের উত্থান এই অর্থের যোগানে ভাটার সৃষ্টি করেছে এবং এর ফলে সাংবাদিকতা পেশা আজ অস্তিত্ব সংকটের সম্মুখীন। কিন্তু এটাই মূল সঙ্কট নয়। সংকটের কেন্দ্রে থাকা আপাত সহজ যে কারণটিকে অগ্রাহ্য করে আমরা বিপদকে আরও ঘনীভূত করছি তা হল পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা কখনো নিজে অর্থ উপার্জন করতে পারেনি। জনসাধারণকে বিভিন্ন তথ্য সরবরাহ করতে হলে আমাদের সবকিছু সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হয়। সাংবাদিকেরা শতাব্দীকাল সময় ধরে তাদের বাজার নিয়ন্ত্রণ করেছে বিভিন্ন সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যার মধ্যে আছে সরকারী অঙ্গসংগঠন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো। এভাবে বাজার ব্যবস্থার অবনতির সাথে তাল দিয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নতি ঘটেছে।

প্রযুক্তিপ্রিয় মানুষেরা ইন্টারনেটের অবাধ প্রসারের যে স্বপ্ন দেখছেন সেটা কি আমাদের সমস্যার সমাধান করতে পারে? যদি ইতিহাসের কাছ থেকে আমরা শিক্ষা নেই তাহলে উত্তর হবে ‘না’। সাংবাদিকতার ইতিহাস আমাদের সামনে তুলে ধরে, যারা আশা করে বাজারব্যবস্থা নাগরিকদের প্রয়োজনীয় সব তথ্য সরবরাহ করবে তারা ভুল আশা করছে। নিরপেক্ষতা এক ধরণের সামাজিক ডারউইনিজম তৈরি করে। ব্যতিক্রম হিসেবে আমরা দেখি যে, আইডিয়ার বাজার তখনি জমজমাট যখন বাজার নিয়ন্ত্রণকারী শক্তিগুলো মুখ থুবড়ে পড়েছে।

সাংবাদিকতাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে এবং গণতন্ত্রকে স্থায়িত্ব দিতে চাইলে নতুন করে সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করতে হবে। এই কাঠামো সাংবাদিকদের নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে ও সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে সাহায্য করবে যা উচ্চমানসম্পন্ন সংবাদ তৈরিতে লাগবে। জনগণের কাছে সাংবাদিকতার মতো ক্ষণস্থায়ী ব্যবস্থা এই গুরুতর সমস্যার সমাধানে খুব বেশি কিছু করতে পারবে না। উচ্চমানসম্পন্ন সাংবাদিকতা অনেক দামি এবং এতে প্রচুর অর্থ খরচ হয়।  এই খরচ মেটানোর কোন না কোন উপায় বের করতে হবে। পূর্বে সাংবাদিকতা কীভাবে কাজ করত সেটা যদি আমরা বুঝতে পারি , তবে এর ভবিষ্যৎ নিরূপণে আমরা সাহায্য করতে পারব।

অননূদিত প্রবন্ধটি পড়তে ক্লিক করুন :http://blog.oup.com/2015/11/future-of-news-journalism/